অপেক্ষা: বাংলা ছোটোগল্প

 অপেক্ষা

ডি অমিতাভ 

সবকটা পূজা সংখ্যা পড়া হয়ে গেছে। সবকটা মানে বড়ো বড়ো হাউসে,,  বাংলায় তো অসংখ্য শারদ সংখ্যা বের হয়। সব তো আর পড়া সম্ভব না। কাশফুল এখনও হাওয়ায় দুলছে আগের মতোই। এখন আর কাশফুল আগমনীর সঙ্গীত গাইছে না। কেরালা থেকে ফেরার পথে ট্রেনের জানলা দিয়ে কোলাঘাটের কাছে কাশফুলের মেলা দেখেছে ঈশিতা। জানালা দিয়ে হাত বাড়িয়ে ধরা যায় যেন। আঙুল বাড়িয়ে ক্লাস ফাইভে পড়া মেয়েকে দেখাতে গিয়ে তর্জনী ধাক্কা খেয়েছে এ. সি কামরার স্বচ্ছ ভারী কাচে। প্রদীপ্তার সে দিকে নজর নেই। সে একমনে ট্যাব নিয়ে খেলে চলেছে ভিডিওগেম। পাশ থেকে প্রদীপ বলে উঠেছিল- ওহ! তোমার সব ব্যাপারেই আদিখ্যে।।  নিজেই দেখ না বাপু, তোমার লেখালেখিতে কাজে লাগবে। ঈশিতা একটা ঢোক গিলে নিজের মধ্যেই গিলে নেয় সমস্ত উচ্ছাস। সে অহেতুক কথা বাড়ায় না। সে জানেই না অথবা খুব ভালো করে ভাবলে তাকে শেখানোই হয়নি তর্ক করা, এমন তার বাপের বাড়ির পরিবেশ অথবা শিক্ষা।

– বৌদি, আজ কী রান্না হবে?

– কুচো চিংড়ি দিয়ে লাউ রাঁধব, না ফ্রিজ থেকে চিকেন বের  করব?

ঈশিতা বারান্দায় টবে জল দিচ্ছিল একমনে। টগরগাছে দু-একটি পিঁপড়ে লেগেছে। মাটিতে অল্প থাইমেট দিতে হবে। মনে মনে ভাবে সব সৌন্দর্যেই কি বিষ থাকে? সম্বিত ফিরে পায় রান্নার মেয়ের ডাকে। তার মানে আটটা বেজে গেছে মনে মনে হিসেব করে। সাতটায় প্রদীপ বেরিয়ে যায় অফিসের গাড়িতে। সেক্টর ফাইভে তার ব্যাস্ত জীবন। বিয়ের সময় একটা ইংরেজি দৈনিকের ব্যাক অফিসে কাজ করত। তখন তবু সময় ছিল তার,হয়ত ঈশিতার শরীরের ধারও ছিল তখন। এখন সমস্ত বক্রতায় পলি জমেছে বলে হয়ত কাজ একটা অজুহাত।  এখন তো আই টি সেক্টরে ব্যাস্ত বস। প্রভুত্বের শর্ত দিয়েছে সে। অনেক বি টেক, এম টে,,  এম বি এ তার নীচে। মাটিতে সোঁদা গন্ধ লাগে তার। মার্বেল অথবা টাইলসে সে স্বাচ্ছন্দে হাঁটে। রুম ফ্রেসনারের কৃত্রিম সুগন্ধ ছাড়া সে বাঁচতে পারে না। ফুলের গন্ধ সে এখন আর পায় না।

(চলবে)