বাংলা গল্প, শাপলার ফুল

ডি. অমিতাভ

  • কী হবে রে শ্যামা এবচর চাষের !
  • কী আর হইবে, বান হবে। চাষ হইবে না। যে হারে ওজ বিষ্টি হোচ্চে বান ডাকবেই চক্কোত্তিখুড়ো ! গরীব মানষে না খেয়ে মোরবে।
    গ্রামের আটচালায় জনা পাঁচেক লোক বসে বিড়ি খাচ্ছে। টালির আটচালার জায়গায় জায়গায় বৃষ্টির জল টপটপ করে পড়ছে। টালির ফাঁক দিয়ে পড়া টোপা জলে মাটির মেঝেতে টলগুলির মতো গর্ত হয়েছে। সেই জলে মেঝে হড়হড়ে হয়ে আছে। বসার মতো জায়গা নেই। তবু তারই মধ্যে অপেক্ষাকৃত শুখনো জায়গায় পাঁচজনে উবু হয়ে ব’সে। পায়ের প্লাস্টিকের জুতো পাছায় দিয়ে হাঁটুতে হাত রেখে বসেছে সবাই। বসে ঠিক জুত হচ্ছে না। শুখনো খড় এনে বসার প্রস্তাব দিয়েছিল প্রতাপদা। কিন্তু এই বৃষ্টিতে কে আনতে যাবে ভেবে কেউ আর সে প্রস্তাব নিয়ে নাড়াচাড়া করেনি। সবে সকাল দশটা বাজে। মেঘের ছায়ায় বৃষ্টির দাপটে মনে হচ্ছে সন্ধে হবো হবো।
    টানা আট দশদিন বৃষ্টিতে ভূষণ চক্রবর্তীর গলাটাও একটু বসে গেছে। স্যাঁত স্যাঁতে আবহাওয়া। ভূষণ চক্রবর্তীর বয়েসও হয়েছে কিছুটা। ষাট বাষট্টি হবে। তবে দেখলে আরও বেশী মনে হয়। চোয়াল ঢোকা, চোখ বসা তবে নাক টিকালো। কোন এককালে গায়ের রঙ ফর্সা ছিল ভালো করে তাকালে বোঝা যায়। এখন তামাটে মেরে গেছে। লাট অঞ্চলের নোনা জলবায়ু এখানেও ভেসে আসে। নোনা হাওয়ায় সোনাও রঙ হারায় আর সেখানে তো ভূষণ চক্রবর্তীর গায়ের রঙ ! যদিও এ অঞ্চলটা ঠিক সুন্দরবনের লাট অঞ্চল না। কোলকাতা আর সুন্দরবনের মাঝামাঝি অঞ্চল। তবে সুন্দরবনের এক্কেবারে গা ঘেঁসে এই মথুরানগর গ্রামটা।
  • বুজলে হে, এ বচর জ্যোষ্টে জলিই হলো। জ্যোষ্টের তিন দিন এগুন থাকতে জল ঝড় শুরু হলো। আর আজও থামার নাম নেই।
    বিরাজদা বিরক্তি নিয়ে বিড়ির শেষ টানটা মেরে বিড়িটা ছুঁড়ে বলে। বিড়ির আগুনটা মাটিতে পড়ার আগেই উড়ন্ত অবস্থায় বৃষ্টির ফোঁটায় নিভে যায়। আলো কমের জন্যই পুরো ব্যাপারটা শ্যামার চোখে পড়ে।
    ভূষণখুড়ো গলাটা একবার খাঁকিয়ে স্যাঁতস্যাঁতে আওয়াজটা দূর করার চেষ্টা করে। তারপর কালীপূজার মণ্ডপে পুরোহিতের ভঙ্গিতে, অনেকটা মন্ত্র পড়তে পড়তে পাঁঠা বলির সম্মতি সূচক মাথা নাড়তে নাড়তে বলে, এবচ্চর অনাসৃষ্টির বচর। জলাধিপতি চন্দ্র, শষ্যাধিপতি বুধ। আর শুনবে রাজা কে ? শনি। আর মন্ত্রী শুক্র। কী করে আর ভালো কিছু হবে !
    এদের মধ্যে সুজয় কিছুই বলছে না। এক মনে সব শুনে যাচ্ছে। তার বয়েসই সব থেকে কম। বছর খানেকও হয়নি বিয়ে করেছে। বলতে গেলে নতুন বউই। সে সব কথা থেকে কিছু একটা ভালো শুনতে চাইছে। তাদের বাড়ির উঠোনে জল উঠেছে। আজ কালের মধ্যে বৃষ্টি না থামলে দাবায় জল উঠে যাবে। আর দাবায় জল ওঠা মানেই মাটির বাড়ি ধসে পড়বে। গত তিন চারদিন সে আলসেগড়েরহাট থেকে পলিথিন কিনে এনে বাড়িটাকে যতটা সম্ভব বৃষ্টি থেকে আড়াল করেছে। দেওয়াল সব লাল, নীল পলিথিনে ঢাকা। নতুন বউ এর মতোই লাগছে ছোট্ট বাড়িটাকে। কিন্তু গোড়ায় জল জমলে মাটির বাড়ি ধসে যাবেই। সুজয় চুপ করে আছে দেখে শ্যামা সুজয়কে গা ঠেলে দিয়ে বলে, সুজে, কী অতো ভাবতিচিস ! গরীবের কপাল এমনিও পুড়বে তেমনিও পুড়বে। চ বরং খেজাল নিয়ে মাচ ধরতে বেরোই। সব পুকুর ভেসে গেচে। চারিদিকে পোনা মাচের ঘাই দেকচি। চ ওট দিকিন !
  • শ্যামাদা, মাচ ধরে আঁদবে কোতায় ? উনুনে সব জল ঢুকে আচে !
  • তুই চলতো ! মাচ না হয় বেচে দে আসবো !
  • কে কিনবে এই বাদলার দিনে !
  • কেউ না কিনুক চল মাচ ধরি। ধরে নায় ফের ছেড়ে দোবো ! তবু চল মাচ ধরি। ওট তুই।
    s
    এবছর বন্যাই হলো মথুরানগর সহ বিস্তীর্ণ অঞ্চলে। শ্রাবণ মাসের মাঝামাঝি সময়ে সরকার ঘোষণা করলো পুরো দক্ষিণবঙ্গ বর্ষা কবলিত। বৃষ্টি অবশ্য সেই কবেই থেমে গেছে। বরং বলা চলে এখন অনেকদিন বৃষ্টির দেখা নেই। কিন্তু মাঠে এখনও জল থই থই অবস্থা। আর সব থেকে বড় কথা শ্যামাসহ চাষিরা কেউই চাষের জন্য বীজতলা তৈরি করতে পারেনি।
    মথুরানগরে কমবেশি সকলেরই অবস্থা খুব খারাপ। চাষ কারও হয়নি। শ্যামার বিঘে দেড়েক বাপকেলে জমি আছে। তাতেই চাষ করে সারা বছরের খোরাকি হয়ে যায়। ঘরে খোরাকী থাকলে চাষির চিন্তা থাকে না। তেল, নুন, আলু কেনার চিন্তা করে না। সবজি না হলেও চলবে। এদিক ওদিক মজুর খেটে ওগুলোর সংস্থান শ্যামা ঠিক করে নিতে পারবে। পাঁচ জনের সংসার তার। ছেলেটাও বেশ বড়। স্কুল ছেড়ে দিয়েছে গত বছর। এখন তপনও তার সঙ্গে মাঠে কাজ করে। এবছর তো পুরো মজুরী পাওয়ার কথা। ষোল বছর বয়েস হয়েছে। চেহারাও দেখার মতো। খাটতেও পারে। তবে শ্যামার ছেলের মতি গতি ঠিক ভালো লাগে না। বেশ কুঁড়ে হয়েছে ছেলেটা। গতর খাটাবার নাম করতে চায় না। ঠেলে ঠুলে পাঠালে অবশ্য ভালোই কাজ করে। তবে আজকাল কানে আসছে তপনটা নাকি কুসঙ্গে পড়েছে। ও পাড়ার কালুয়ার সঙ্গে পড়ে নাকি ধেনো মদটদও খাচ্ছে লুকিয়ে চুরিয়ে।
    শ্যামা এখন ছেলেকে নিয়ে ভাবতে চাইছে না। এই মুহূর্তে তার চিন্তা ছেলের থেকেও বেশী খোরাকীর। চাষ হয়নি। নিজের অল্প জমিতে চাষ করে যে সামনে বছরের খোরাকী জোগাড় করবে সেতো দুরস্ত, অন্যের জমিতে চাষ করে সে এখনের মতো নুন, তেল, আলু জোগাড় করবে সেটাই হচ্ছে না। যা চাল আছে আর বড় জোর মাস খানেক চলবে। তারপর ? এই সময়টা প্রতিবছর মজুর খেটে পাওয়া টাকা থেকে নগদে চলে। এবছর তো কাজও নেই। সে কিছুটা নিশ্চয়তা নিজেকে দেওয়ার জন্য ভাবে মাসখানেকের চাল তো আছে ! কিন্তু ভাত তো
    [২]
    আর শুধু খাওয়া যাবে না। নুন, তেলের জন্য সামান্য হলেও নগদ টাকা চাই। কারও কোন কাজ নেই। সারা গ্রাম যেন থম মেরে আছে। জয়দেবের মুদির দোকানেও অনেক গুলো টাকা বাকী হয়ে গেছে। সে আর বাকী দিতে পারবে না বলে দিয়েছে। তার ছোট দোকান, অল্প পুঁজি। টাকা না দিলে সেই বা দেয় কী করে !
    শ্যামা খুব ভোরে উঠেছে আজ। কোন কাজ নেই তবু এত ভোরে উঠতে দেখে তার বউ কমলি খুব অবাক হয়।
  • কী গো, এতো সবরে উটলে যে ! কাজকম্মো তো কোতাও নেই !
  • কাজের ধান্দাতেই উটিচি রে ! রামকেষ্টপুরের গোপাল কনটাকটারের বাড়ি যাব। যদি কোলকাতায় রাজমিস্তিরির জোগাড়ের কাজ হয়।
  • তা যাও। নইলে খাবো কী !
    শ্যামা ভোর ভোর বেরিয়ে পড়ে আর সকালেই ফিরে আসে। মুখে তার একরকম হতাশা। বউ বুঝতে পারে কাজ জোটেনি। কমলি কিছুই বলে না। দাবায় পা ঝুলিয়ে বসেছে শ্যামা। কমলি পেতলের বড় গ্লাসে করে জল দেয়। জলটুকু এক ঢোঁকে খেয়ে শ্যামা নিজেই বলে, বুজলি কমলি এ অঞ্চলে যেন দুর্ভিক্ষ নেগেচে। দু-দশটা গেরামের নোকে সব গোপাল কনটাকটরের বাড়ির সামনে হত্যে দে পড়ে আচে। যদি কোন ভাবে কাজ পাওয়া যায়। অত্ত লোক জুটেছে কারে নেবে ?
    কমলি ভয়ে ভয়ে বলে, আর একটু থাকতে পাততে তো ! যদি কোন ভাবে তোমায় ডাকতো।
  • তুই দেকেচিস সে ভিড় ? কোন ভাবে তোমায় ডাকতো !
    শ্যামা কমলিকে মুখ ভেঙিয়ে ওঠে। এতটা পথ গেছে এসেছে। কাজ পায়নি। কোথাও কাজ পাওয়ার আশাও দেখতে পাচ্ছে না। তার সব অক্ষম রাগ খিয়ে পড়ে বউএর উপর।
    ঠিক তখনই তপন বাড়ি ঢোকে। বাবা-মাকে বলে, বাপ আমি কেরালা যাব।
  • সে কোতায় রে ? কী জন্নে যাবি ?
  • অনেক দূর। ভালো রোজ দেয় সেখানে। একেনের ডবোল।
  • কার সাতে যাবি তুই ?
  • কালুয়াদের সাতে যাব। কালকেই বেরবো।
    s
    ভাদ্রমাসের শুরুতেই স্বাধীনতা দিবসে সরকার ঘোষণা করেছে বন্যা কবলিত দক্ষিণবঙ্গের সব চাষিকে চাষের খরচ বাবদ বিঘা প্রতি হিসাবে অনুদান দেওয়া হবে। অল্পই টাকা কিন্তু তাও পেলে শ্যামার মাস দুয়েক চলে যাবে। শ্যামা খুব দৌড়াদৌড়ি করে কদিন পঞ্চায়েতে। আজ গিয়েছিল বিডিও অফিসে। অনেকটা বাস রাস্তা পেরিয়ে যেতে হয়। সে ভোর থেকে হেঁটেই পৌঁছায় বিডিওতে। সঙ্গে বগলদাবা করে জমির দলিল। হাতে সামান্য টাকা। এটাকা খরচ করা যাবে না। বাসে চড়লে সে টাকার অনেকটাই নষ্ট হয়ে যাবে। বেয়াল্লিশ বছরের তাগড়া জোয়ান। হেঁটেই চলে গিয়েছিল।
  • সার আমার কি অনুদান হবে ?
    সামনে একজন ভদ্রস্থ লোক দেখে রোদে ঘামা শ্যামা কাকুতি করে জিজ্ঞাসা কে।
  • কই দেখি কাগজপত্র ?
    শ্যামা তার জমির দলিল পত্র যা ছিল সঙ্গে পলিথিন সমেত এগিয়ে দেয়।
  • এই যে সার, এতে সব আছে।
  • আহা: সব অরিজিনাল এনেছো কেন ? নষ্ট হয়ে যাবে তো ! জেরক্স করে আনতে পারো না ! কী নাম তোমার ?
  • আজ্ঞে, শ্যামাপদ বাড়ুই।
  • কিন্তু এতো সুধাকর বাড়ুই এর জমির কাগজপত্র !
  • আজ্ঞে উনি আমার সর্গ্গীয় পিতা।
  • কিন্তু নিজের নামে জমি না হলে তো এ অনুদানের টাকা ঢুকবে না দাদা।
    শ্যামা হাঁটতে হাঁটতে বাড়ি ফেরে। ফেরার পথে পাড়ার প্রতাপও ওর সঙ্গ নেয়। দুজনে মাঝ রাস্তায় ধেনো মদ খায়। অনেক দিন পরে অল্প মদ খাওয়ায় নেশা হয় জোরদার। প্রতাপও টাকা পাবে না। তার জমি তার ঠাকুরদার নামে। দুই গরীব মানুষ নিজেদের শেষ সম্বলে হাত রেখেছে হতাশা তাড়াতে। মদ খেয়ে দুজনেই আরও চুপচাপ মেরে যায়। তবু মাতালের স্বাভাবিক প্রবৃত্তিতে অল্প স্বল্প কথা হয়। ঘরে খাবার চাল নেই। চালের খড় পাল্টাতে হবে, এসব টুকটাক কথা। টাকা না পাওয়ায় সরকারের বাপ-মায়ের শ্রাদ্ধও চলে গালাগালসহ। এত কিছুর পরেও প্রতিবেশীর স্বাভাবিক ঈর্ষায় দুজনেই দুজনকে খোঁচা মারে।
  • পতাপ, তোর জমিতে তো আরোয়া ধান গাচ ভালোই হ’য়চে। বস্তা তিনেক ধান হবে। তোর কপাল ভালো। আমার ডহর জমি। শালা একটা গোচও হয়নে !
  • শ্যামা, তোর কোপাল তো আমার থেকেও চওড়া রে !
  • কেন ? আমার আবার কী দেকলি ?
  • তোর ব্যাটা কেরালা গেচে। ভালো কামাচ্চে তোর আর চিন্তা কী !
  • সে আঁটকুড়ির বেটার কতা বলিসনি। দেড় মাস হলো ়গেচে একটা টাকা পাটায়নি। ওপাড়ার কালুয়ার পাল্লায় পড়েচে। ফুত্তি মারাচ্চে সেকেনে। বাপ মায়ের চিন্তা থাকলে তো !
    দুজনের গ্রামে ঢুকতে ঢুকতে সন্ধে হয়ে আসে। মাস খানেক দৌড়াদৌড়ি করছে সরকারের অনুদান পাওয়ার লোভে। আজ বুঝে গেছে সবটাই বেকার খাটা। কোন আশা নেই। কাল কী হবে কেউ জানে না। গ্রামের রাস্তায় ঢুকে হাঁটতে হাঁটতে শ্যামা ফাঁকা মাঠের দিকে দীর্ঘশ্বাস
    ফেলে তাকায়। এসময় অন্য বছর মাঠ সবুজে সবুজ হয়ে থাকে। কারও কারও ধানের থোড় কঠেলে এসময়। এবছর মাঠ ফ্যাকাসে হয়ে আছে থই থই ঘোলা জলে। জায়গায় জায়গায় শাপলার জঙ্গল হয়েছে। শাপলার ফুলগুলো আসহ্য লাগে শ্যামার। ধানের বদলে অজন্মা বেজন্মা শাপলা কোন চাষির বা ভালো লাগে !
    প্রতাপকে ছেড়ে বাড়ি ঢোকে শ্যামা। বাড়ি ঢুকতেই তার বড়মেয়ে দৌড়ে আসে। গ্রামের স্কুলে ক্লাস ফোরে পড়ে। ছোটটা আরও ছোট। এখনও কমলির বুকের দুধ খায়।
  • বাবা বাবা, দ্যাখো কী এনেছি !
    শ্যামা দেখে পৈঠের কাছে একটা বালতি করে মেয়ে ডাঁটি সমেত শাপলা ফুল জাবিয়ে রেখেছে। ফুলগুলো একসঙ্গে ফুটে উঠেছে। ধপধপে সাদা হয়ে বালতির মুখটায় একটাই যেন ফুল। কালরাতেই মাঠের দিকে গিয়েছিল শ্যামা। বিড়ি খেতে খেতে দেখছিল শাপলাগুলো যেন জোনাকির মত মাঠময় ফুটে আছে। কালও রাগ হচ্ছিল খুব। এসময় ধানের বদলে মাঠে শাপলা ফুটে থাকলে চাষি খাবে কী ! আজ আরও রাগ জেগে উঠতে চায় শ্যামার। মেয়েটাকে কান ধ’রে একটা চড় মারতে ইচ্ছা করে। কিন্তু মেয়েটা ফুলের সঙ্গে ফুলের মতোই হাসছে একমনে। শ্যামা কী করবে ভেবে পায়না। হতাশা আর রাগের মধ্যে দাঁড়িয়ে আছে শাপলা ফুলের মেয়ে।
    ঠিক তখনই হন্তদন্ত হয়ে বাড়ি ঢোকে কমলি। মুখে তার চওড়া হাসি। বহুদিন শ্যামা বউকে হাসতে দেখেনি। কমলি আঁচলের খুঁট থেকে অনেকগুলো টাকা বের করে শ্যামার হাতে দেয়। অদৃশ্য ঈশ্বরকে আকাশের দিকে জোড় হাতে প্রণাম করে কমলি। শ্যামা ভেবাচেকা হয়ে হাতে টাকা নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে ছাঁচ তলায়। সামনে বালতিতে শাপলার পাপড়িতে হাত বুলিয়ে আদর করছে মেয়েটা। বালতিটা সরিয়ে কমলি শ্যামাকে ডাকে, উঠে এসো দাবায়। সাঁঝবেলায় ছাঁচতলায় দাঁড়াতে নেই। খোকা ট্যাঁকাগুলো পাটিয়েচে কেরালা থেকেন। দুপুরে পিওন দে গেচে। আমি বাতাসা কিনতে গেছিনু। কাল হরিনুট দোবো।