বাংলা গল্প, সজলকুমার

ডি. অমিতাভ

এক অন্যধারার বাংলা গল্প সজলকুমার। এই গল্পের রূপরস গন্ধ সব আলাদা। এই গল্প পড়ে আপনিও একটু থমকে দাঁড়াবেন, এই দাঁড়ানোটুকুই বারবার গল্পের প্রাণ প্রতিষ্ঠা করবে।

বাংলা গল্প

সজলকুমার
ডি. অমিতাভ
পশ্চিমের ব্যালকনির দরজা দিয়ে পাখিটা সোঁওও করে দয়িতার মাস্টার বেডরুমের মেঝেতে এসে পড়লো। অনেকটা উড়োজাহাজের ল্যান্ডিং এর মতো। তবে তালগোল পাকানো ল্যান্ডিং। মনে হলো পাখিটাকে অন্য কোন রাতপাখি তাড়া করেছিল। সন্ধেবেলা দয়িতা মেয়েকে মোঘল সাম্রাজ্যের পতনের কারণ পড়াচ্ছিল। ক্লাস সিক্স। ইতিহাস ছাড়া দয়িতা ডিম্পিকে কিছুই পড়াতে পারে না। ডিম্পির ইংলিশ মিডিয়াম; সেকেন্ড ল্যাঙ্গুয়েজও হিন্দি। সে মোঘল সাম্রাজ্য থেকে বাবর, আকবর, শাহজাহান হয়ে সোজা তাজমহলে ঢুকে যায়। বিয়ের পরে পরেই শিবেন্দুর সঙ্গে জোৎস্নারাতে তাজমহল দেখার স্মৃতিতে ঢুকে পড়ে। সেই কাঁধে মাথা রেখে তাজমহল দেখা বড় বেদনার মনে হয় এখন।
আর সেই আনমনা ফাঁকে ডিম্পি কখন ড্রয়িংরুমে পালিয়ে গেছে। ডোরেমন বা ছোটাভীম। যাই চলুক গোগ্রাসে গিলবে। এই বয়েসে দয়িতার রক্তদর্শন হয়ে গিয়ে, মনে মনে নতুন পৃথিবীতে। অথচ ডিম্পি কিছুই বোঝে না রক্তের কথা। কিন্তু মুখে বেশ বড় বড় কথা। সিনেমার হিরো হিরোইন নিয়ে; তাও বেশীর ভাগ হলিউডের তারা। তখনই দয়িতার চিন্তার উর্ণনাভ ছিঁড়ে পাখিটা ঘরে এসে পড়ে।
দয়িতা পড়ানোর চেয়ারে বসে ভাবছিল শিবেন্দুর সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠ সময়ের কথা। পাখিটা পড়েছে খাটের পাশেই। পাখিটা দাঁড়াতে গিয়ে মার্বেল মসৃণ মেঝেতে পা চিরে পড়ে যাচ্ছে বারবার। দয়িতা বুঝতে পারে সবুজ মেঘভেজা পালকের পাখিটা কোন ভাবে চোট পেয়েছে। সে চেয়ার ছেড়ে ঝটপট উঠে দাঁড়ায় গলার কাছে লাল নীল ময়ূরপঙ্খী রঙের পাখিটাকে সেবা করতে। তাকে উঠে দাঁড়াতে দেখে পাখিটা হালকা উড়ে আলনার জামা কাপড়ে বসে। বসার ভঙ্গিটা অদ্ভুত। কাঠঠোকরার মতো জামা কাপড়ে ঝুলে বসে।
দয়িতা বুঝতে পারে পাখিটা ভয়ে পালাতে চাইছে। এত উজ্জ্বল রঙের রাতপাখি হয় না দয়িতা জানে। নিশ্চয়ই পাখিটা দিনের সীমা অতিক্রম করে ভুল করে বয়ে গিয়েছিল রাতের আঁধারে। আর তাতেই বাদুড়, প্যাঁচার মত পাখির তাড়া খেয়ে দয়িতার সাততলার ফ্ল্যাটে ঢুকে পড়েছে। দয়িতা প্রথমেই বুদ্ধি করে ঘরের ফ্যানটা বন্ধ করে। উড়তে গিয়ে পাখিটা আবার না আহত হয় ঘুরন্ত ফ্যানের ব্লেডে। তারপর ধীরে সুস্থে ঘরের জানালা দরজা বন্ধ করে।
দয়িতা ভরসন্ধেবেলা হঠাৎ ঘরের দরজা জানালা বন্ধ করতে ভয় পেয়ে যায় ডিম্পি। ক্লাস সিক্সে পড়া মেয়ে! কিন্তু স্কুলটা কোলকাতার নামজাদা স্কুল। সেখানে বাবা মায়ের সম্পর্ক আর সম্পর্ক পাল্টানোর খবর নিয়ে অকাতর আলোচনা চলে। ডিম্পির ক্লাসেই সুধিতির মা ডিভোর্স দিয়ে চলে গেছে আহমেদাবাদে। রঞ্জুশ্রীর বাবা অফিস কলিগের সঙ্গে আবার বিয়ে করবে। এসব জোরদার তোলপাড় গোপন আলোচনা। ডিম্পি বোঝে তার বাবা মায়ের সম্পর্কটা আর আগের মতো নেই। মাকে সে লুকিয়ে কাঁদতে দেখেছে। ধরা পড়লে দিব্যি মিথ্যা কথা বলে আজকাল মা।
মা মিথ্যা করে ব’লে কান্নার কথা লুকলেও তার মায়ের যে কিসের দুঃখ বুঝতে পারে না ডিম্পি। কিন্তু দুঃখ যে একটা আছে ডিম্পি বুঝতে পারে। আর দিন দিন দুঃখের জালা যে ভ’রে উঠছে বুঝতে পারে সে। মা আগের থেকে অনেক চুপচাপ। ইংরাজি বলতে পারে না বলে এখন আর হতাশ হয় না। মানুষ যখন আর হতাশ হয় না বা উৎফুল্ল হয় না, তখনই নাকি আত্মহত্যাপ্রবণ হয়ে যায়। ডিম্পি এসব জানতো না। তার বন্ধু নাগমা এসব বলেছে। নাগমার মা নাকি ঘরের দরজা জানালা বন্ধ করে দিয়ে অনেকবার গায়ে কেরোসিন ঢেলে দাঁড়িয়ে থেকেছে।
ডিম্পি দরজার বাইরে এসে নাক উঁচু করে কেরোসিনের গন্ধ খোঁজে, পায় না। তারপর মনে পড়ে অন্য কথা। জানালার সামান্য ফাঁক দিয়ে দেখতে পায় সিলিং ফ্যান বন্ধ। সিলিং ফ্যান বন্ধ করেই নাকি গলার ওড়না ঝোলায় ফ্যানের গলায় ! খুব জোরে চিৎকার করে ওঠে, মা! মা গো ! দরজা খোল ? আমার ভয় করছে খুব।
ভেতর থেকে শান্ত গলায় দয়িতা উত্তর দেয়, এখন খোলা যাবে না !
ডিম্পি আরও ভয় পেয়ে চাপড়াতে থাকে মাস্টার বেডরুমের দরজার পাল্লা।
পাখিটা একদম অন্য রকম। চওড়া আর লম্বা হলুদ ঠোঁট। পিছনে লম্বা লেজ। গভীর নীল চোখ। মাথায় অল্প লাল, আকাশী রঙের ছিট। সামনে থেকে দেখলে গলার কাছে ময়ূরকণ্ঠী কেশরের মতো লাগছে। পাখিটা চওড়ায় বেশ বড়।


ঘরের দরজা জানালা বন্ধ করে পাখিটার সঙ্গে দয়িতা একা হ’তে মনটা ছ্যাঁত করে ওঠে। কবেকার পুরনো একটা মূল্যবোধের মতো মনে হয় পরপুরুষের সঙ্গে দরজায় খিল তুলেছে। পাখিটা আলনায় তার শাড়ি আঁকড়ে ঝুলছে। কাঠঠোকরার মতো ঠুকছে। মিঠে রঙের শাড়িতে চওড়া হলুদ ঠোঁট। গা শির শির করে ওঠে দয়িতার। সে পাখিটাকে ধরার বদলে নিজের শাড়ির আঁচল ঠিক করে বার বার।
দয়িতা কেঁপে উঠতে থাকে শৃঙ্গারে শানিত দেহলতার মতো। বহুদিন আর শিবেন্দুর সঙ্গে রতিচক্রে তৈরি হয় না সম্ভোগের ভাস্কর্য। শিবেন্দু বড় ব্যস্ত। জীবনের ভবিষ্যৎ সুরক্ষিত করতে সে অবহেলা করছে বর্তমানের সৌন্দর্যকে। তার কাছে শরীরসঙ্গের থেকে দামি হয়ে উঠেছে অর্থসঙ্গ। দয়িতার কানে বহুদিন সে শরীরকথা রাখেনি বা বুকে গরম হাত। দয়িতা বন্ধ ঘরে দূর থেকে পাখিটাকে পর পুরুষ ভেবে মনে, শরীরে রমিত হতে থাকে।
এক সময় খাটে এসে ধপ্‌ করে বসে পড়ে। পাখিটার দিকে দীর্ঘক্ষণ তাকিয়ে থাকতে থাকতে এক ধরনের আত্মসম্মোহন লেগে গিয়েছিল তার। খাটে বসতেই কানে আসে ডিম্পির গলা। মনে পড়ে তার কর্তব্য কর্ম। পাখিটাকে ধরবে বলে সে দরজা বন্ধ করেছে। আর মনে পড়ে তার বহুদিন আগের অন্য এক ঘটনা। তার ছোটবেলার গোপনে দেখে ফেলা এক ঘটনা।
s
দয়িতার ছোটবেলা কেটেছে এখনের থেকে একদম অন্যরকম। এখন যেন ফ্ল্যাট বাড়ির সাততলায় বারশো স্কোয়ার ফুটে নির্বাসিত। অথচ তার ছোটবেলা কেটেছে মুক্ত পরিবেশে। একান্নবর্তী পরিবারের স্বাভাবিক হই হই জীবনে। অনেক কাকা-কাকি, ঠাকুমা-ঠাকুরদা, ভাইবোনের সংসার। প্রতিদিন রান্নাই চড়তো পঁচিশ ত্রিশ জনের। বাড়ির লোক ছাড়াও ছিল গরু বাছুর দেখাশোনা করা বা জায়গাজমিতে কাজ করার অনেক মানুষ। তারাও পালিত ছিল সংসারে। লম্বা মাটির বাড়ির এক ধারের বড় একটা ঘরে তারা অনেকেই থাকতো ছেলেপুলে নিয়ে। সংসার গমগম করতো লোকজনের উপস্থিতিতে।
ছোটবেলার কথা খুব মনে পড়ে দয়িতার। খুব বিশদে মনেও আছে তার। তখনও সে স্কুলে ভর্তি হয়নি। বা সবে সে বছর স্কুলে ভর্তি হয়েছে। একদিন খুব সকালে বাড়ির পিছন দিকের রাস্তা ধরে ভ্যান রিক্সায় অনেক মালপত্তর চাপিয়ে তাদের বাড়ি আসে নির্মলাপিসি। রাস্তার দুধারে নুয়ে থাকা বাঁশে বারবার আটকে যাচ্ছিল নির্মলাপিসির উঁচু করে বাঁধা মালপত্তর। বিরক্ত পিসি ভ্যানরিক্সায় মালপত্তর ছেড়ে দৌড়ে বাড়ি ঢুকে এসেছিল কাঁদতে কাঁদতে। বাড়ির সবাই খুব অবাক ! এত সকালে নির্মলা বাপের বাড়ি এলো ? তাও একা ! আবার কাঁদছে কেন ? তারপর যখন ভ্যানরিক্সায় মালপত্তর দেখল, বুঝে গেল কী হয়েছে। নিঃসন্তান নির্মলাকে শ্বশুরবাড়ি থেকে তাড়িয়ে দিয়েছে।
কয়েকদিন বাড়িটা একটু থম মেরে গিয়েছিল। তারপর আবার আস্তে আস্তে নিজের ছন্দ ফিরে পায়। নির্মলাপিসিও বাপের বাড়ির সঙ্গে মানিয়ে নেয় চোখের জল চোখে শুখিয়ে ভাগ্যের দোহাই দিয়ে। দয়িতাদের বাড়িতে এত পালিত মানুষ আর বাড়ির মেয়ে নির্মলার আশ্রয় হবে না হতেই পারে না ! নির্মলাপিসি শুধু থেকে গেলে না, বহাল তবিয়তে থেকে গেল সংসারে। তার জন্যে একটা ঘর বরাদ্দ হয়েছে পুবের দিকে বাগান ধারে। সেখানে যেন নিজস্ব মর্জি মাফিক বাঁচতে পারে নির্মলাপিসি সেজন্য ফলের বাগানের দেখাশোনার ভার দেওয়া হয়েছে তাকে।
ফলের বাগানটা বড়দাদুর। দয়িতার বাবার জ্যাঠামশাই এর। বড়দাদু কাজ করতেন মহিষাদলের রাজার বাড়িতে। সাধারণ কর্মচারী ছিলেন। রাজার বাগানের দেখাশোনা করতেন। প্রায় মালিই বলা যায়। কিন্তু রাজার বাগানের মতই নিজের বাড়ির বাগানটা সাজিয়ে ছিলেন মনের মতো করে। ভাগ্যিস রাজার বাগান আর বড় দাদুর ফলবাগানের মধ্যে দিয়েই মোহনার চওড়া গঙ্গা নদী বয়ে গেছে না হলে রাজারবাগানের অনুরুপ বাগান তৈরির দায়ে বড়দাদুর চাকরিই চলে যেত। দারুন সব জাতের আমগাছ তো ছিলই, তার সঙ্গে ছিল কাঁঠাল, পেয়ারার অসংখ্য গাছ। আর ছিল কামরাঙা, সবেদা, চালতা, টিয়াফলেরও বড় বড় গাছ। মিষ্টি লিচু যেমন ছিল, তেমনি ছিল লিচুর সাইজের আঁশফলও।
বড়দাদু যতদিন বেঁচে ছিল গাছে পাখিদের ছিল অবাধ আমন্ত্রণ। বড়দাদু মারা যাওয়ার পর নির্মলাপিসি গাছগুলোয় ফল এলেই বড় বড় নাইলনের জালে মুড়ে দিত লোক লাগিয়ে। সে বছর দয়িতা ক্লাস সিক্সে পড়ে। বর্ষার ঠিক মুখেই লিচু গাছের জালে একটা পাখি ধরা পড়ে। একদম বাচ্চা পাখিটা। টিয়াপাখির মত রং কিন্তু টিয়াপাখি নয়। হরিয়াল পাখির মতো বড়সড় বুকের ছাতি। ঠোঁটটা হলুদ আর কেমন একটা ছেতরে আছে যেন। এরকম পাখি


দয়িতা আগে পরে আর কখনও দেখেনি। নির্মলাপিসি সেই অচেনা পাখিটা রেখে দেয় নিজের কাছে। প্রথমে জুতোর বাক্সে, পরে পরে খাঁচা কিনে পুরোপুরি পুষতে থাকে মনের মতো করে।
পাখিটা শিস দেয় না, ডানা ঝাপটায় না। শুধু দুবেলা দুটো নরম ফল খায়। পেয়ারা, পাকা আম, লিচু বা পাকা কামরাঙা দিলেই হলো। নির্মলাপিসির ঘরটা সদর বাড়ি থেকে একটু দূরেই ছিল। ঘরটা আসলে বড়দাদু বানিয়ে ছিল বাগানরক্ষীর জন্য। ফলে প্রতিরাতে নির্মলা পিসিকে খাঁচা সমেত পাখিটা ঘরের মধ্যে তুলেই নিতে হতো খটাশ বা বিড়ালের ভয়ে। এরকমই জানতো দয়িতা।
সময় এগোতে থেকে সময়ের হিসাবে। দয়িতা ক্লাস এইটে ওঠে। দয়িতার বড় হয়ে ওঠার সঙ্গী হয়ে ওঠে নির্মলাপিসি। দয়িতা বুঝতে পারে নির্মলাপিসির চাপা দীর্ঘশ্বাসগুলো। ভরাভর্তি সংসারের কোথাও যে পিসির একটা শূন্যতা খেলে বেড়ায় বুঝতে পারে। গমগম করা সংসারেও মাঝে মাঝে নির্মলাপিসি নিজেকে নির্জন করে নেয়। তার সব আদর, চাপা দরদ পাখিটার জন্যে বুঝতে পারে দয়িতা।
পাখিটাকে দয়িতা তেমন আমল দেয় না। পিসির ঘরে যাতায়াত করে। ঘরটা বাড়ির এক ধার ঘেঁষা বলে দয়িতার ভালো লাগে সেই একাকীত্ব। পিসির শূন্যতাও তাকে টানে আর ঘরটাও বাগানের মধ্যে বলে বেশ ঠাণ্ডা ঠাণ্ডা। সব মিলিয়ে দয়িতা দিনের বেশিরভাগ সময় কাটায় পিসির ঘরে। ঘরের দাওয়ায় খাঁচাতে থাকে অচেনা জাতের পাখিটা। এই ক’বছরে পাখিটা পূর্ণ বয়স্ক হয়েছে। ডানায় উজ্জ্বল রঙ লেগেছে। গায়ের পালক মেঘের মতো মোলায়েম। পাখিটাকে এখন দেখলেই দয়িতার মনে হয় স্বর্গচ্যুত কোন দেবদূত। ওইটুকুই। তবু পাখিটা নিয়ে দয়িতার বাড়তি কোন উচ্ছ্বাস নেই। আসা যাওয়ার পথের ধারের রঙিন ফুলের মতো লাগে; তবে দৈনন্দিন বলে অপ্রশংসিত।
s
মাধ্যমিক পরীক্ষা হয়ে গেছে। সারাদিন ঘুরে বেড়াচ্ছে দয়িতা। শুধু কাল প্রজেক্টের খাতা জমা দেওয়ার আছে বলে রাত জেগে খাতা বানাচ্ছে। রাত হয়েছে অনেক। হঠাৎ মনে পড়ে স্কেচপেনগুলো পিসির ঘরে পড়ে আছে। নিজের ঘরের দরজা ভেজিয়ে হ্যারিকেন নিয়ে বেরিয়ে পড়ে সে।
পিসির ঘরের সামনে গিয়ে দরজায় কড়া নাড়তে যাবে এমন সময় দয়িতা শুনতে পায় পিসি শিস দিচ্ছে আর কাকে যেন ডাকছে স-জ-ল-কু-মা-র! স-অ-অ-জ-ল-কু-উ-উ-মা-আ-আ-র! দয়িতা অবাক হয়ে যায়। পিসির ঘরে কোন পুরুষ! যে পিসিকে সে মায়ের থেকে বেশি ভালোবাসে সেই পিসি পরপুরুষকে ঘরে তোলে ! পিসিকে ভালোবাসে বলে লজ্জায়, ঘৃণায় তার মাথা ঘুরে যায়। তবু সামলে নিয়ে জানলায় একটা ফুটোয় লোকটাকে জানার জন্য উৎসুক চোখ রাখে।
ঘরের ভেতরে একটা বড়ো খাঁচা আবিষ্কার করে দয়িতা। মশারী। তার ভেতরে দুটো পাখি। কমবয়সী স্বামী পরিত্যক্তা সুন্দরী নির্মলাপিসি পাখির মতই উবু হয়ে বসে। আর খাঁচার পাখিটা পিসির সারা শরীরে সরীসৃপের মতো ঘুরে বেড়াচ্ছে, ঠোকরাচ্ছে আদুরে কায়দায়। বিশেষ বিশেষ জায়গায় চঞ্চুর মতো ঠোঁট দিয়ে চুষে দিচ্ছে অনায়াস অভিজ্ঞতায়। আর পিসি দুহাত দিয়ে শূন্যতাকে জড়িয়ে ধরে কুবোপাখির মতো ডাকছে সজলকুমার ! সজলকুমার !
পিসির জানালা থেকে চোখ সরিয়ে নিয়ে দয়িতা ফিরে আসে নিজের সাততলার জীবনে। এই পাখিটাও খুব রঙ্গিন, ঠোঁটটাও চওড়া; ঠিক যেন ছোট বেলায় দেখা পাখিটার মতো। এর নাম সজলকুমার রাখলে কেমন হয় !

আরও গল্প পড়ুন

হুমায়ুন

শাপলার ফুল

শব্দছক

সম্পূর্ণ ওয়েবসাইট ভিজিট করুন