রুদ্র গোস্বামী: কবি বন্ধু ২


রুদ্র গোস্বামী: কবি বন্ধু ২ 

ডি অমিতাভ

 (লেখাটি আজ থেকে ২০ বছর পরে লেখা। হাঁ ঠিক পড়েছেন “পরে”!)

তখন আমি নতুন বলতে গেলে। খুব নতুন নয় তবে তখনকার সময়ে সব নববধূ চাকরি করত না,  ফলে তাদের বিয়ের বয়েস বছর পার হলেও পুরানো হতো না। এমনও  হয়েছে প্রথম বাচ্চা হয়ে গেছে অথচ নতুন বউএর তকমা কাটেনি।  আমার তেমনই  দ্দশা। অভিযান পাবলিশার্স থেকে আমার তিন তিনটি বই বেরিয়ে গেছে, চতুর্থ বই ছাপতে যাবে যাবে তখন ঘনিষ্ঠতা রুদ্রর সঙ্গে। মনে রাখতে হবে তখন অভিযান পাবলিশার্স চালাত মারুফ,  মারুফ হোসেন ।  যে প্রকাশনা চালাবার জন্য নিজের লেখালেখির খাতা তুলে রেখেছিল চিলেকোঠার গোপন দেরাজে। যদিও তখন প্রায় সবাই কম্পিউটারে লেখে। আমি এবং সামান্য কয়েকজন ছাড়া। সেই মারুফ নিজের  সময়ে ওই অল্প বয়েসেই একজন প্রথিতযশা।

সেই মারুফ হোসেনই আমার সংগে রুদ্রর পরিচয় করিয়ে দেয়।  সাধারণ পরিচয়। প্রতি শনিবার শনিবার তখন অভিযান পাবলিশার্সএ আড্ডার চলছিল। সেখানে মারুফ অনেকের সঙ্গেই আমার বা আমাদের পরিচয় করিয়ে দিতো। কথা চালাবার মতো পরিচয় আর কী!  প্রত্যেকর সঙ্গে প্রত্যেকের আলাপ সে নিজ দ্বায়িত্বে করাতো। নিজের কাজ গুছিয়ে করার মতো এই কাজটা করতো যদি না তার মুড অফ থাকে।

সেই আধা নতুন অবস্থায় রুদ্রর সঙ্গে মানে তখনই বিখ্যাত নয়,  জনপ্রিয় কবি রুদ্র গোস্বামীর সংগে আমার বন্ধুত্ব। আমি এমনিতে যেচে আলাপ করতে পারি না। আলাপ হলেও প্রলাপ বকার মতো ঘনিষ্ঠতা খুব কম লোকের সঙ্গে করেছি জীবনভর।  রুদ্রর সংগে আলাপের পর বহুদিন ওর ফোন নম্বর নিইনি। ও চায়ওনি। ওই যে আমি নতুন। তখনও কিন্তু ফোনে একটু আধটু  ভিডিওকল করা যেত।  ছবি এখনের মতো স্পষ্ট না হলেও বোঝা যেত প্রেমিকা এবং প্রেমিকার মায়ের চোয়াল। প্রেমিকারা তখন একটুআধটু অসূর্যম্পশ্যা ত্বক দেখাতো। বোজাও যেতো। তবে একনের মতো স্পর্শস্পষ্ট ছিল না।( চলবে)